চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই আর্থিক খাত থেকে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই নেওয়া হয়েছে ব্যাংক খাত থেকে। জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা।

তথ্য বলছে, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ প্রায় চার গুণ বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে যেখানে ব্যাংক ঋণ ছিল ১৫ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক খাত থেকে এবং বাকি ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সাত মাসেই মোট লক্ষ্যমাত্রার ৫৮ শতাংশের বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। শুধু ব্যাংক খাত থেকেই নেওয়া হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৬২ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে ব্যাংকের বাইরে ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রি করে সংগ্রহ করা হয়েছে ৭ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে এসেছে মাত্র ৬১০ কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব আদায় কম হওয়া এবং বৈদেশিক ঋণ প্রত্যাশা অনুযায়ী না আসায় সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাতের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সরকার এভাবে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে থাকলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে। এতে বিনিয়োগে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বাড়তে পারে সুদের হারও।

সব মিলিয়ে, বাড়তে থাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ দেশের আর্থিক খাতে নতুন করে চাপ তৈরি করছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংক