মার্কিন সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে ইসরায়েল: শত্রু দেশের তালিকায় ঠাঁই পাচ্ছে!

ছবি- সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা দ্রুত হ্রাস পাওয়াকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে ইসরায়েলি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’ (আইএনএসএস)। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ও আর্থিক সমর্থন বজায় রাখতে হলে ইসরায়েলকে এই জনমত পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের কাছে ইসরায়েল একটি নেতিবাচক দেশ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ আমেরিকানদের ৭৫ শতাংশই এখন ইসরায়েলকে নেতিবাচকভাবে দেখে। এমনকি ডেমোক্র্যাটদের ৮০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশ ইসরায়েলের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করছেন। এমনকি প্রথাগত শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিকাল খ্রিস্টানদের মধ্যেও ইসরায়েল বিদ্বেষ বেড়ে চলেছে।
আইএনএসএস মনে করছে, গাজা ও ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ এই জনমত ধসকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে এই যুদ্ধগুলো দীর্ঘায়িত করছেন। এমনকি খোদ মার্কিন ইহুদিদের ৭০ শতাংশই এখন ইসরায়েলকে শর্তহীন সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে মার্কিন জনগণের কাছে রাশিয়া, ইরান ও চীনের মতো শত্রু দেশগুলোর পরেই ইসরায়েল সবচেয়ে অ-জনপ্রিয় দেশ হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছে।
আইএনএসএস সতর্ক করেছে, ইসরায়েলি নেতাদের সামরিক উগ্রপন্থা বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া এই বিশাল সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তার ভিত্তি নড়বড়ে করে দেবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি নীতিতে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য বলে মনে করছে থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান টি।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









