স্বাক্ষর জালিয়াতি কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডির তল্লাশি
ছবি- সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আলোড়ন তোলা বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি অভিযোগের তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছে রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় শাসক দলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির কর্মকর্তারা স্থানীয় কালিঘাট থানার পুলিশ ও বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান বলে জানা গেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিরোধীদলীয় নেতা (এলওপি) স্বীকৃতির জন্য বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া একটি প্রস্তাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৭ মে, যখন তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি ও সন্দীপন সাহা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসকে জানান যে, দলের ৬ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। অথচ স্পিকারের কাছে পাঠানো দলীয় চিঠিতে এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদনের দাবি করা হয়েছিল।
দুই বিধায়কের অভিযোগ, তথাকথিত ওই প্রস্তাবটি ‘মনগড়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি’ করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি ব্লক লেটারে লেখা ছিল, যা সন্দেহের জন্ম দেয়। এছাড়া তারা জানান, তারা বৈঠকের সিদ্ধান্ত বইয়ে ৬ মে নয়, বরং ১৯ মে স্বাক্ষর করেছিলেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে।
এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই তৃণমূল কংগ্রেস ওই দুই বিধায়ককে ‘দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার’ অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডির তিনটি পৃথক দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। একটি দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে, আরেকটি দল তার ভাতিজা ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে এবং তৃতীয় দলটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করছে।
তবে তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ছিলেন না। তিনি বর্তমানে দিল্লি সফরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বাক্ষর জালিয়াতির এই অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









