বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বানে জেগে ওঠার দিন। মঙ্গল শব্দ অর্থ হলো : কল্যাণ, শুভ, ভালো কিছু এবং শোভাযাত্রা শব্দ হলো শোভাময় বা সাজানো-গোছানো মিছিল। আর মঙ্গল শোভাযাত্রা মানে শুভ ও কল্যাণ কামনায় বের করা বর্ণিল শোভাযাত্রা বা মিছিল।

১৯৮৬ সালে শোভাযাত্রা শুরুর দশম বছরে (১৯৯৬) আনন্দ শোভাযাত্রাটি নাম নেয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’য়। সময়ের পরিক্রমায় আয়োজনটি সর্বমহলে এতটাই গ্রহণযোগ্যতা পায় যে, জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য‘ হিসেবে এটিকে স্বীকৃতি দেয়। কারণ ইউনেসকো উল্লেখ করে, মঙ্গল শোভাযাত্রা অশুভকে দূর করা, সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতীক। এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাঙালির ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাতিগত সব ধরনের বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

শুরুতে শোভাযাত্রার নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল না। প্রথমে এর নাম ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, নামটা মঙ্গল শোভাযাত্রা দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও শুরুতে আনন্দ শোভাযাত্রাই বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি মঙ্গল শোভাযাত্রা নামেই পরিচিত হয়। ১৯৯০ সালে ভাষাসৈনিক ইমদাদ হোসেন ও সংগীতজ্ঞ ওয়াহিদুল হকের পরামর্শে বর্ষবরণ শোভাযাত্রা নাম পাল্টে রাখা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।