সম্পর্ক এবং ভালোবাসা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গভীর অর্থপূর্ণ অনুভূতিগুলোর একটি। যে কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং বোঝা পড়ার উপর। শুধু ভালোবাসা দিয়েই একটি সম্পর্ক টিকে থাকে না তার সাথে প্রয়োজন ধৈর্য, সহনশীলতা এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ।

একটি সুন্দর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে খোলামেলা কথা বলা, একে অপরকে সময় দেওয়া এবং সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ সম্পর্ক তখনই গভীর হয়, যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে বুঝতে শেখে এবং একসাথে এগিয়ে যেতে চায়।

ভালোবাসা এমন এক অনুভূতি, যা মানুষকে শক্তি দেয়, সাহস জোগায় এবং জীবনের কঠিন সময়গুলো পার করতে সাহায্য করে। সত্যিকারের ভালোবাসায় থাকে নিঃস্বার্থতা সেখানে নিজের চাওয়ার চেয়ে প্রিয় মানুষের সুখকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভালোবাসা মানে শুধুই আনন্দ নয় কখনো কষ্ট, ভুল বোঝাবুঝি এবং মান-অভিমানও এর অংশ।

তরুণ তরুনীদের কথা মাথায় আসলে প্রথমে আসে জেন-জি প্রজন্মের কথা। জেন-জি প্রজন্মের হাত ধরে সম্পর্কের অভিধানে যোগ হয়েছে নানা রকম ‘শিপ’। যেমন ফ্রেন্ডশিপ, রিলেশনশিপ, সিচুয়েশনশি্‌প, ন্যানোশিপ । ‘ফ্রেন্ডশিপ’ বা ‘রিলেশনশিপ’এই শব্দগুলো আমাদের সকলের চিরচেনা। এই শব্দগুলোর পাশে যুক্ত হয়েছে ‘সিচুয়েশনশিপ’। সিচুয়েশন অর্থাৎ পরিস্থিতি এ শব্দটি এখন প্রায় শোনাই যায় নাহ। তালিকায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ন্যানোশিপ।

সিচুয়েশনশিপ বলতে এমন একটি সম্পর্ককে বোঝায়, যেখানে দুইজন মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও আবেগ থাকে, কিন্তু সম্পর্কটির কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা বা প্রতিশ্রুতি থাকে না। একে অপরের প্রতি কেউ কমিটেড থাকে নাহ। এটি বন্ধুত্ব ও প্রেমের মাঝামাঝি একটি অবস্থান যেখানে কেউই পুরোপুরি দায়িত্ব নিতে চায় না, আবার একে অপরকে ছাড়তেও পারে না।

এই ধরনের সম্পর্কে শুরুতে সবকিছু সহজ ও স্বস্তিদায়ক মনে হয়, কারণ কোনো চাপ বা বাধ্যবাধকতা থাকে না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অনিশ্চয়তা, দ্বিধা এমনকি মানসিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একজন হয়তো সম্পর্কটিকে গভীরভাবে নিতে শুরু করে, কিন্তু অন্যজন একইভাবে প্রতিক্রিয়া না দিলে কষ্টের সৃষ্টি হয়।

আর ন্যানোশিপ,  এই কথাটি শুনতে নতুন মনে হলেও এই কথাটির রয়েছে গভীর অর্থ। ‘ন্যানো’ অর্থাৎ অতি ক্ষুদ্র বা সংক্ষিপ্ত। সম্ভবত ভালোবাসার আকাশে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি রোমাঞ্চকর ঝলকের নাম ন্যানোশিপ। এটি হতে পারে কোনো কফিশপে বা চায়ের দোকানে দুই-চার ঘণ্টা সময় একসঙ্গে কাটানো বা কোনো ছুটিতে কাটানো কয়েকটি দিনও হতে পারে। এই সময়টুকুতেই গড়ে ওঠে এক ধরনের রোমান্টিক সংযোগ। কিন্তু  এখানেই শেষ। ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, প্রতিশ্রুতির বোঝা নেই, এমনকি সম্পর্কের কোনো সংজ্ঞাও নেই। যেন এক টুকরো ভালো লাগা এসেছিল, ছুঁয়ে গেছে, তারপর মিলিয়ে গেছে। এখানেই শেষ। এই সম্পর্কের প্রতি আকর্ষণ কেন বাড়ছে? এর পেছনে বড় কারণ বর্তমান সময়ের জীবনযাত্রা।