তেল পেতে দিনভর অপেক্ষা, থমকে যাচ্ছে কর্মজীবন

ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীজুড়ে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কাটছে মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কোথাও এক কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে যানবাহনের সারি। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, পিকআপ ভ্যান, এমনকি জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সও অপেক্ষায় তেলের জন্য।
দুপুর থেকে বিকেল, বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা তবুও লাইনের শেষ নেই। অনেকেই কাজ ফেলে দাঁড়িয়ে আছেন শুধু কয়েক লিটার তেলের আশায়। কেউ কেউ লাইনে দাঁড়িয়েই সেরে নিচ্ছেন খাবার, আবার কেউ খাওয়াও বাদ দিচ্ছেন। কারণ লাইন ছেড়ে গেলে তেল পাওয়ার সুযোগ হারানোর শঙ্কা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও মূল ভোগান্তি এখন সময় আর অনিশ্চয়তা ঘিরে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়। বিশেষ করে ভাড়াভিত্তিক মোটরসাইকেল চালক ও পেশাজীবীদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। কাজের সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকেই দিনের আয় হারাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। সরকার বলছে, মজুত সংকট নেই। কিন্তু আতঙ্কে বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ায় সরবরাহে চাপ বেড়েছে। ফলে দিনের শুরুতেই অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। দাম বাড়ানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। এখনো কমেনি আতঙ্কজনিত কেনাকাটা’। ফলে লাইনের দৈর্ঘ্যও কমছে না।
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও কয়েকশ গাড়ি ও মোটরসাইকেল অপেক্ষা করছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কেউ দুপুরে লাইনে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্তও তেল পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন সাধারণ মানুষ। যারা প্রতিদিন রাস্তায় নামেন জীবিকার তাগিদে, তাদের জন্য জ্বালানি শুধু প্রয়োজন নয় এটাই তাদের বেঁচে থাকার মাধ্যম।
প্রশ্ন এখন একটাই, এই অপেক্ষার শেষ কোথায়? কবে স্বাভাবিক হবে জ্বালানি সরবরাহ, আর কবে কমবে এই অন্তহীন লাইন।

নাজমুল গাজী
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






