পাবনায় স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ তিন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে একজন এবং মঙ্গলবার সকালে আরও দুজন মারা যান।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের সুমন শেখ, পাশের নতুনপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং ইমন ওরফে সাপু।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩ জুন পদ্মা নদী থেকে স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন দাফন শেষে উত্তেজিত জনতা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অভিযুক্ত নাইম প্রামানিকের বাড়িতে আগুন দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ঘটনাস্থল দেখতে গিয়ে পাঁচ তরুণ দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

নিহতদের স্বজনরা জানান, রিয়ার জানাজা শেষে ফেরার পথে অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন লাগে। তবে কারা আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। আগুনের মধ্যে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে কয়েকজন তরুণ গুরুতর দগ্ধ হন।

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মনিরুজ্জামান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সুমন শেখের ভাই উকিল শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে।

এর আগে রিয়া খাতুন হত্যা মামলায় তার কথিত প্রেমিক নাইম প্রামানিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুই আসামি হলেন ইয়াছিন শেখ ও তুহিন প্রামানিক।

পুলিশের দাবি, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই খালিদ হাসান বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

প্রাইমটিভি/এনজি