প্রমাণ করতে পারলে আমি তাঁকে মেডেল দেব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে জামায়াত আমির

ছবিঃসংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে অভিযোগ করে দলটির আমির বলেছেন, তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) যেসব অভিযোগ আনলেন যে কোনো একটা দলের দিকে ইঙ্গিত করে। একেবারে নাম বলে দিলেই পারতেন জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলছেন, মাঝেমধ্যে নেকাব খোলা ভালো। এটা খুলে দিতেন এখানে, নেকাব রাখলেন কেন?
ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০০ কোটি টাকার লোন (ঋণ) কে নিয়েছে, এটা কোনো একটা দলের নির্বাচন ফান্ডে ফান্ডিং (নির্বাচনী তহবিলে দেওয়া হয়েছে) করা হয়েছে। আমি এটা পরিষ্কার জানতে চাই, উনি জামায়াতকে এটার দ্বারা মিন করেছেন কি না। যদি উনি মিন করে থাকেন, আই অ্যাম টেকিং অ্যাবসলিউট চ্যালেঞ্জ (আমি চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি)। তিনি এটা প্রমাণ করতে পারলে আমি তাঁকে একটা মেডেল দেব পারসোনালি।’
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার আগের আলোচক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের জবাব দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিমের (আরডিএস) অর্থায়ন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, সেটাও নাকচ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘আরডিএস কোনো দলের নয়, কোনো ধর্মেরও নয়। উনি ১১ হাজার কোটি টাকার একটা রেফারেন্স দিয়েছেন। কে নিয়েছে এটা? আমি, আমার সহকর্মীরা যদি এ রকম হয়, দলের ফান্ডে যদি এক টাকাও আসে। আমি বলব সার্চলাইট দিয়ে এইটা তালাশ করে আমাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা জামায়াত আমির বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব চমৎকার চমৎকার কিছু কথা বলেছেন। উনি বলেছেন যে শেয়ারহোল্ডার তো শেয়ারহোল্ডার। সে কীভাবে শেয়ারহোল্ডার হয়েছে এটা পরে দেখা যাবে। এটা পরে কেন? এটা আগেই এক্সপোজ (প্রকাশ) হয়ে গেছে। সারা দুনিয়া জানে, ওনার মতো একজন বিজ্ঞ মানুষ জানেন না। আমি এটা বিশ্বাস করি না।’
এস আলমের নাম উল্লেখ না করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই ব্যাংক থেকে উনি একা নিয়েছেন তাঁর নিজের নামেই ৮২ হাজার কোটি টাকা। আর তাঁর সমুদয় শেয়ার যেগুলো তিনি কিনেছেন ৮২ পার্সেন্টের (শতাংশ) মালিক হয়ে গিয়েছেন, এগুলোর মূল্য হচ্ছে মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ তিনি কইয়ের তেল দিয়ে শুধু কই ভাজেন নাই, কইও ভেজেছেন, শোল মাছও ভেজেছেন এবং সবগুলো ব্যাংক থেকে ডাকাতি করা টাকা।’
শেয়ারগুলো কীভাবে হস্তান্তর হয়েছে, সেই প্রশ্ন রেখে জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) একটা প্রতিষ্ঠানের নাম এখানে বলেছেন। সব কটি বলে দিলে ভালো হতো। এ ধরনের সব শেয়ারহোল্ডারের ওপরে বিশেষ একটা এজেন্সির মাধ্যমে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। তাদের বাধ্য করা হয়েছে শেয়ার হস্তান্তর করতে।’
ইসলামী ব্যাংক কোনো একটি দলের নয় উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই ব্যাংকের গ্রাহক বিএনপিরও আছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও আছে, অন্য ধর্মের মানুষেরও আছে। এটি দেশের মানুষের ব্যাংক। সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক কোনো কারণে যদি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাংলাদেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে বসে যাবে।’
জোরজবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারগুলো ডাকাতি করে নেওয়া হয়েছিল, অনতিবিলম্বে সসম্মানে সেই মূল্যেই তাদের কাছে আবার শেয়ারগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন শফিকুর রহমান। ‘এরপর সরকার সব নিয়ম-কানুন মেনে বোর্ড গঠন করবে, পরিচালনা করবে, আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে,’ বলেন তিনি।
ইতিমধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের আমানতকারীরা তাঁদের অর্থ ফেরত পেতে ভোগান্তিতে আছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখন যদি দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকগুলোর একটির ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘ব্যাংকটাকে ধ্বংস করেছেন শেখ হাসিনা। এস আলমকে তাঁর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমরা এখন স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছি সেই এস আলমকে আবার ফিরে আসার পথ করা হচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি যখন ডেপুটি গভর্নর তখন এস আলমের সব অপকর্মের তিনি ছিলেন সহযোগী। সেই হিসাবে তিনি একটা প্রাইজ পেয়েছিলেন।’
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







