অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে ‘সুখের হরমোন’ সেরোটোনিন

দিনের বড় একটা সময় আমরা কাটাই স্মার্টফোনের পর্দায়। রিলস দেখা, পডকাস্ট শোনা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা সবই যেন এখন স্ক্রিননির্ভর। তবে এই অভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নীরব জৈবিক বিপদ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শুধু চোখের ক্ষতি করছে না, বরং মস্তিষ্কের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করছে এবং দুর্বল করে দিচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের নীল আলো আমাদের শরীরে ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের উৎপাদন ব্যাহত করে। ফলে ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়, কমে যায় স্মৃতি ও শেখার ক্ষমতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণকারী কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে বাড়ে শরীরের প্রদাহ, যা বিষণ্ণতা ও খিটখিটে মেজাজের কারণ হতে পারে। এতেই শেষ নয়, ঘুমের অভাব ও স্ক্রিন স্ট্রেসের কারণে পাকস্থলীর উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে কমে যায় ‘সুখের হরমোন’ সেরোটোনিন, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে মানসিক স্বাস্থ্যে।
বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থাকে বলছেন ‘ডিজিটাল ওবেসিটি’যেখানে মস্তিষ্ক তথ্যের ভারে ক্লান্ত, কিন্তু বিশ্রামহীন। তবে আশার কথা, কিছু সচেতন অভ্যাসেই এ ক্ষতি কমানো সম্ভব। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা, বিকেলের পর ক্যাফেইন এড়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস এই ছোট পরিবর্তনই ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থ জীবনযাত্রা।
সতর্ক থাকুন, সচেতন হোন। কারণ আপনার হাতের স্মার্টফোনই নির্ধারণ করছে আপনার ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য।

নাজমুল গাজী
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









