অনিয়মের তদন্ত চায় সরকার, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি বিরোধীদলের

ছবিঃসংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিতর্ক মতিঝিল থেকে এবার জাতীয় সংসদে গড়িয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আনীত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক থেকে নিয়মবহির্ভূত ঋণ ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে বিরোধী দল ব্যাংকটির চেয়ারম্যানকে এস আলমের দোসর আখ্যায়িত করে তার অপসারণ দাবি করেছে।
বিধি-৬৮-তে বিরোধীদলীয় নেতার জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার উত্থাপনীয় বিষয় ছিল– ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সকল প্রকার অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থে আলোচনা।’ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
নোটিশ উত্থাপন করার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির দিকে আবারও ‘দখলকারী চক্রের’ নজর পড়েছে। ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক এবং দেশের মোট রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে আসে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক হয়রানি ও অপপ্রচারের মধ্যেও ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটির বেশি মুনাফা অর্জন করেছিল এবং সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। পরবর্তীতে তৎকালীন সরকার বিভিন্ন উপায়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ব্যাংক লুটপাট করে, যার ফলে ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে চরম অব্যবস্থা চলছে। ৮৯ কোটি টাকার একজন ঋণখেলাপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছেন। অন্যদিকে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন আমানতকারীরা।
তিনি বলেন, এ দেশে রিজার্ভ চুরির মতো বড় ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ডিজিএফআইয়ের নেতৃত্বে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। এস আলম গ্রুপের কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। বলা হয় ইসলামী ব্যাংককে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। এটি কেন বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যাংক হবে? আবদুল আউয়াল মিন্টু সাহেব একটি ব্যাংকের কর্ণধার, আমরা কি সেটাকে বিএনপির ব্যাংক বলব? মির্জা আব্বাস ঢাকা ব্যাংকের ডিরেক্টর, সেটা কি বিএনপির ব্যাংক? কিংবা প্রয়াত আবদুল জলিল সাহেব যে ব্যাংকের ডিরেক্টর ছিলেন, সেটাকে কি আমরা আওয়ামী লীগের ব্যাংক বলব?
বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জোরপূর্বক দখল করা শেয়ার প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিয়ে সৎ লোকদের মাধ্যমে ব্যাংকটি পরিচালনা করা না হলে তিন কোটি গ্রাহক রাস্তায় নামবে এবং দেশে বড় ধরনের গণআন্দোলন তৈরি হবে।
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






