হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাব এবার পড়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ পানামা খালে। পণ্য ও জ্বালানি বহনকারী জাহাজের দীর্ঘ সারি এখন কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই খাল পার হতে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে অনেক জাহাজকে।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি এলপিজি বহনকারী ট্যাঙ্কার দ্রুত পারাপারের জন্য নিলামে দিয়েছে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার। অথচ হরমুজ প্রণালি বন্ধের আগে একই সুবিধার জন্য খরচ হতো ১ মিলিয়ন ডলারেরও কম। খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত যেসব জাহাজ আগে থেকে বুকিং করে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছায়, তাদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয় না। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকে এই নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। লাইনে না দাঁড়িয়ে দ্রুত পারাপারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রবণতা এখন অনেক বেড়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের তথ্য বলছে, বর্তমানে পানামা খাল দিয়ে পার হতে তেলবাহী ও কার্গো জাহাজকে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিকল্প রুট হিসেবে পানামা খালের ওপর চাপ বেড়েছে। এর ফলে ৫০ মাইল দীর্ঘ এই নৌপথে সৃষ্টি হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম বড় জট। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে খাল ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিস্থিতিকে করেছে আরও জটিল। খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিলামে নির্ধারিত অর্থ তারা ঠিক করে না। বরং জাহাজ মালিকদের জরুরি প্রয়োজন, বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক সরবরাহ ও চাহিদা, ভাড়া এবং জ্বালানির দামের ওপর নির্ভর করে এই মূল্য নির্ধারিত হয়।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সাত দিনের গড় হিসেবে এই অপেক্ষার সময় হিসাব করা হয়েছে। যেখানে বুকিং থাকা এবং না থাকা উভয় ধরনের জাহাজই অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওডিন মেরিন গ্রুপ সতর্ক করে বলছে, সামনে দিনগুলোতেও খাল দিয়ে পারাপারের প্রতিযোগিতা তীব্র থাকবে। ফলে অতিরিক্ত ফি বা প্রিমিয়ামও উচ্চ পর্যায়েই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় এই চাপের প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি ও পণ্যের দামে, এমন আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।