পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফল ঘোষণা শেষে ২০৬টি আসনে জয় নিশ্চিত করে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে দলটি। অন্যদিকে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস নেমে এসেছে ৮১ আসনে।

বিজয়ের পর দলীয় নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসে ভাসতে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকায়। ফুলের মালা দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে, যিনি দুইটি আসনে জয় পেয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

বিজেপির আরেক নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। তার ভাষায়, “মানুষ আমাকে জয়ী করেছে। বিজেপির কাছে তাদের অনেক প্রত্যাশা। তারা ১৫ বছর মমতা ব্যানার্জি-কে সময় দিয়েছে, কিন্তু তিনি তাদের জন্য কিছুই করেননি।”

তবে এই ফলাফল নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে এবং ১০০টিরও বেশি আসন “লুট” করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি।

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করেছে। আমি অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একসঙ্গে মিলে বেআইনি কাজ করেছে।”

এদিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার অভিযোগ উঠছে। তৃণমূলের দাবি, তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বিজেপি সমর্থকরা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী নিজেও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মারামারি বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বিজেপির এজেন্ডায় নেই। যারা অপরাধী, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে রাজ্যজুড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের প্রতি নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ জনগণ।