ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় আবারও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ডেকে আনল নয়াদিল্লি।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে ভারতের কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী বেসামরিক জাহাজের ওপর হামলার ফলে ইতোমধ্যে তিন ভারতীয় নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ধরনের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সম্প্রতি আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজ, যেখানে ২০ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন, হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে তলব করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে এসব সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করাও জরুরি।

ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী তিনটি বিদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ১১ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় প্রায় ২০ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে আটকে রয়েছেন।

বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে এ অঞ্চলের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রাইমটিভি/কেআর