বিগত কয়েক বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের সকল কলকারখানা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিগত শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং দেশের অর্থনীতিকে লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করা হয়েছিল।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে।

শহরে হকার উচ্ছেদ নিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু হকার উচ্ছেদ করলে সমাধান হবে না, আগে তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে।” তিনি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ ঘোষণা দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের স্ত্রীরা এখন থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবেন, যার মাধ্যমে তারা বিশেষ রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

কৃষকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি এবং কৃষকদের কার্ড প্রদানের কাজও দ্রুত গতিতে চলছে।” গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে পুনরায় ‘খাল খনন’ কর্মসূচি শুরু করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে এবং তাদের পানির সমস্যা দূর করা সরকারের অগ্রাধিকার।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষে প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, কৃষক ও শ্রমিকের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারলেই প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।