একজনের দিন কাটে বিছানায় শুয়ে, অন্যজনকে সামলে রাখতে পায়ে পরাতে হয় শিকল। একই পরিবারের দুই শিশুর জীবন যেন জন্ম থেকেই থেমে আছে অসহায়ত্বের বেড়াজালে। বয়স বাড়ছে, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনের দেখা মিলছে না। চিকিৎসার অভাব আর দারিদ্র্যের কাছে হার মানতে বসেছে তাদের স্বপ্ন।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার মধ্য আগরপুর গ্রামের মোবারক মিয়ার পরিবারে প্রতিদিনই চলছে এমন এক নীরব সংগ্রাম। কৃষক মোবারক মিয়া ও তার স্ত্রী নিমা আক্তারের পাঁচ সন্তানের সংসার। এর মধ্যে বড় ছেলে ১৫ বছর বয়সী মোশারফ এবং ১০ বছর বয়সী রিফাত জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে লড়ছে। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী, অন্যজন মানসিক প্রতিবন্ধী।

মোশারফ নিজে চলাফেরা করতে পারে না। বসে থাকা ছাড়া প্রায় সব কাজেই অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন হয় তার। খাওয়া-দাওয়া, গোসল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজ করে দিতে হয় মা, বাবা কিংবা দাদিকে।

অন্যদিকে রিফাতের শ্রবণক্ষমতাও খুবই সীমিত। সে কথা বলতে পারে না। মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে হারিয়ে যায়। কখনো প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরও করে। তাই বাধ্য হয়েই অনেক সময় তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়।

এক কানি জমি আর বাবার দিনমজুরির আয়ে চলে মোশারফ ও রিফাতদের সংসার। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে। তার ওপর দুই সন্তানের চিকিৎসা ও বিশেষ পরিচর্যার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেশীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের বিশেষ সহায়তা পেলে হয়তো বদলে যেতে পারে শিশু দুটির জীবন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, মোশারফ ও রিফাত দুজনই সরকার থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। তবে এটি তাদের জন্য অপ্রতুল। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মোবারক মিয়ার এই জীবনসংগ্রাম শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, এটি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতারও একটি প্রতিচ্ছবি। প্রয়োজন সময়মতো চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সহযোগিতার হাত, যাতে মোশারফ ও রিফাতের জীবনেও জেগে ওঠে নতুন আশার আলো।

প্রাইমটিভি/এমএইচ