নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় গত ৬ মাস ধরে চলা রহস্যময় ও নৃশংস হামলার মূল হোতা সাইকো সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুরের শরিফপুর কোনাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম গায়ের লোম শিউরে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

পুলিশ জানায়, মোরশেদের মূল টার্গেট ছিল পুরুষহীন বাসা-বাড়ি। দিনের বেলা ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহের পর গভীর রাতে দেয়াল টপকে সে ঘরে প্রবেশ করতো। রক্তপাতের ভয়ে ভুক্তভোগী নারীদের মাথায় ভারী বস্তু (যেমন: টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল, বাঁশ বা লোহার শাবল) দিয়ে কেবল একটিই আঘাত করে চুরি করে পালিয়ে যেত সে।

মোরশেদের এই ধারাবাহিক হামলায় নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা থানায় অন্তত ১২টি এমন ঘটনা ঘটে। গত ১৮ জানুয়ারি ধামইরহাটের নানাইচ গ্রামে কলেজ ছাত্রী উম্মে হাবিবাকে টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। একই রাতে সে আরও দুটি বাড়িতে হামলা চালায়। এছাড়া ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ৭ মে বদলগাছী ও ধামইরহাটে বেশ কয়েকজন নারীকে গুরুতর জখম করে সে। সর্বশেষ ৪ জুন পত্নীতলা থানায় একই কায়দায় লোহার শাবল দিয়ে তিন নারীকে রক্তাক্ত করে এই সিরিয়াল কিলার।

কোনো ক্লু বা তথ্য না থাকায় তদন্তে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিশকে। অবশেষে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। কিলার মোরশেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তদন্তে জানা যায়, ইতিপূর্বে সে দিনাজপুর ও জয়পুরহাটেও একই কায়দায় হামলা চালিয়েছিল, যেখানে আরও দুজন নারী মারা যান।

প্রাইমটিভি/বিএম