মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

শুক্রবার, ১২ জুন কিশোরীলাল জুবিলী স্কুল ও কলেজ, সুত্রাপুরে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এসইডিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ আয়োজিত থানা পর্যায়ে "Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing Program" তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় সফলতা এসেছে। একইভাবে দেশের স্মার্ট যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হয়েছে, যার ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতি দেখা যাচ্ছে।

ইশরাক হোসেন বলেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে এবং সমস্যা শনাক্ত করা হচ্ছে। আগে রিকশা, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও থ্রি-হুইলারের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক সিগন্যাল কার্যকরভাবে মানা হতো না। ম্যানুয়ালি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হতো এবং যানজট সৃষ্টি হতো। এখন এআই সিস্টেমে ক্যামেরা স্থাপন করে নাম্বার প্লেটের মাধ্যমে যানবাহন শনাক্ত করা হচ্ছে এবং নিয়ম অমান্য করলে জরিমানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও ট্রাফিক আইন মেনে চলার মাধ্যমে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এআই প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা মানুষের উপকারে আসবে। তবে এর সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু বছর ধরেই এ ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তিকে কীভাবে ধরে রাখা যায়, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায় এবং আরও উন্নত পর্যায়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করতে পারে, তাহলে সবাই উপকৃত হবে। এ ধরনের উদ্যোগে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।

জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, সোলার প্রযুক্তি এখন অনেক জনপ্রিয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে গ্যাস ও তেলের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে পরিবেশগত দিক থেকেও দেশ উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, আগামী দিনে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জাতীয় বাজেটেও বিভিন্ন প্রযুক্তিখাতে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, তারা যেন বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যায়। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

বায়ুদূষণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম প্রায়ই আসে। এর ফলে ক্যান্সারসহ ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইলেকট্রিক ভেহিকেলের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বাজেটে এ ধরনের নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ইউরোপের উন্নত দেশগুলো ইতিমধ্যে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের দিকে এগিয়ে গেছে। এতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন থেকে সৃষ্ট দূষণ কমানো সম্ভব হবে এবং বায়ুদূষণও হ্রাস পাবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কিশোরীলাল জুবিলী স্কুল ও কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহানাজ বিউটি,কোতয়ালী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অ.দা.)ফারহানা শাহীন লিপি সহ প্রমুখ।

প্রাইমটিভি/এমএইচ