বিএসএফের সিদ্ধান্তহীনতায় মানবিক বিপর্যয়: ৬০ ঘণ্টা শূন্যরেখায় ১২ জন

ছবিঃসংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশইন ইস্যুতে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এদিকে নারী ও শিশুসহ ১২ জন এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার ভোরে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে চারজন শিশু, চারজন নারী এবং চারজন পুরুষ রয়েছেন। তীব্র গরমে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তারা চরম মানবিক দুর্ভোগে পড়েছেন।
শনিবার সীমান্তের ১৫০/এস-৩ নম্বর পিলার এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও বিএসএফ–এর মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিটের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতের রানীনগর বিএসএফ ক্যাম্পের প্রতিনিধি এবং বিজিবি–এর কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে বিএসএফ জানায়, শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক কি না, তা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে রোববার দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি জানায়নি বিএসএফ।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের চর বিলগাথুয়া এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের পুশইনের ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, পতাকা বৈঠকে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সীমান্ত উত্তেজনার এ ঘটনায় মানবিক সংকট তৈরি হলেও এখনো কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের সমাধান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







