পাবনার আতাইকুলায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৪ জুন) মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে উত্তেজিত জনতা এ হামলা চালায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আতাইকুলা থানার আড়িয়াডাঙ্গী বাজারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত কাশেম শেখের মুদি দোকান ও একটি চায়ের দোকানে ভাঙচুর চালায়। পরে তার বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। পাশাপাশি তার কয়েকজন স্বজন ও প্রতিবেশীর বাড়িতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিযুক্ত কাশেম শেখ আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাড়িও একই এলাকায়।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে আরিয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় খড় ব্যবসায়ী কাশেম শেখ তার হাত ধরে টানাটানি করেন। এ ঘটনায় পরদিন ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. অলিউল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত কাশেম শেখ এলাকায় বখাটে ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছে।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত কাশেম শেখ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রাইমটিভি/এনজি