ইউনিয়নের পর এবার বিদ্যালয়, প্রতিমন্ত্রীর নামে নামকরণের উদ্যোগ

ছবি- সংগৃহীত
দুই ছেলে ও ভাতিজির নামে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা পড়ে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে মতামত দিতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শিরিন আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে সুস্পষ্ট মতামত, যৌক্তিকতা এবং সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ সামনে আসতেই স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে সম্প্রতি ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।
এর আগে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক সদস্যদের নামের সঙ্গে মিল রেখে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’ প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নামে এবং মোকামতলা উপজেলার ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ ও ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ তার দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’ নামটি তার এক ভাতিজির ডাকনামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, ইউনিয়নগুলোর নামকরণ তার সন্তানদের নামে করা হয়নি; এটি কেবল কাকতালীয় ঘটনা।
বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের মতামত পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।





