পোশাক বা পদবি নয়, চরিত্রই মানুষের পরিচয়

চরিত্রই মানুষের পরিচয় । প্রাইম টিভি
আমাদের সমাজে প্রায়ই মানুষকে তার বাহ্যিক চাকচিক্য, পোশাক-পরিচ্ছদ, ধন-সম্পদ কিংবা পদ-পদবি দিয়ে বিচার করা হয়। কোথাও সেবা গ্রহণ, কেনাকাটা বা সামাজিক আচরণে অনেক সময় এসব বিষয়কেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অথচ ইসলাম মানুষের মর্যাদার মানদণ্ড হিসেবে বাহ্যিক কিছু নয়, বরং তাকওয়াকেই মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, হে মানুষ, আমি তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।
এই আয়াত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ হয় তাকওয়ার মাধ্যমে, বাহ্যিক রূপ বা সম্পদের মাধ্যমে নয়।
হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বলেছেন, আরবের ওপর অনারবের, অনারবের ওপর আরবের, শ্বেতকায়ের ওপর কৃষ্ণকায়ের কিংবা কৃষ্ণকায়ের ওপর শ্বেতকায়ের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।
বর্তমান সমাজে অনেক সময় দামি পোশাক, ব্র্যান্ডের পণ্য, বিলাসবহুল জীবনযাপন বা উচ্চ পদ থাকলে মানুষকে বেশি সম্মান দেওয়া হয়। আবার সাধারণ পোশাক পরা সৎ ও আল্লাহভীরু মানুষকে অনেক ক্ষেত্রে অবহেলা করা হয়। এমনকি ধর্মীয় পোশাক বা ইসলামী পরিচয়ের কারণে কাউকে পিছিয়ে পড়া বা অযোগ্য মনে করার প্রবণতাও দেখা যায়।
অন্যদিকে ইসলাম এই ধরনের সব মানসিকতাকেই প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষের বাহ্যিক চেহারা বা সামাজিক অবস্থান নয়, বরং তার চরিত্র, নৈতিকতা, আমানতদারি ও তাকওয়াই হলো প্রকৃত মর্যাদার মানদণ্ড।
পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। নারীরাও যেন অন্য নারীদের উপহাস না করে। একে অপরকে খারাপ নামে ডাকা এবং অপমান করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
অতএব ইসলাম শিক্ষা দেয়, মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হবে তার নৈতিকতা ও তাকওয়ার ভিত্তিতে। বাহ্যিক চাকচিক্য, সম্পদ কিংবা পদমর্যাদা কখনোই মানুষের আসল মর্যাদার মাপকাঠি হতে পারে না।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








