রোজ গার্ডেন প্রাসাদ যা সংক্ষেপে রোজ গার্ডেন নামে পরিচিত,বর্তমানে  এটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের টিকাটুলি এলাকায় অবস্থিত, অন্যতম স্থাবর ঐতিহ্য। প্রাচীন ভবনটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসাবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৯ সালে রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত ভবন ঘোষণা করে।

 

রাজধানীর পুরান ঢাকার টিকাটুলি এলাকা থেকে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন প্রাসাদে যাতায়াত এখন সহজ ও স্বল্পসময়ের বিষয়। স্থানীয়দের মতে, টিকাটুলি ওয়ারী এলাকার মধ্যেই অবস্থিত হওয়ায় দর্শনার্থীরা খুব অল্প সময়েই এই ঐতিহ্যবাহী স্থানে পৌঁছাতে পারেন।

 

টিকাটুলি মেইন রোড বা বাজার এলাকা থেকে কে এম দাস লেন ধরে এগোলেই রোজ গার্ডেনের অবস্থান পাওয়া যায়। হাঁটাপথে যেতে সময় লাগে আনুমানিক ৫ থেকে ১০ মিনিট। বিশেষ করে আশপাশের বাসিন্দারা নিয়মিত হেঁটেই যাতায়াত করে থাকেন।

 

 রিকশায় গেলে সময় লাগে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিট। ভাড়া সাধারণত ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য। রিকশাচালকদের কাছে “রোজ গার্ডেন” বললেই তারা সহজেই গন্তব্যে পৌঁছে দেন।

 

 ব্রিটিশ আমলের নব্য ধনী ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস। তখনকার সময়ে  সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসায় ঢাকার খানদানি পরিবারগুলো তেমন পাত্তা দিত না ঋষিকেশ দাসকে। একবার তিনি জমিদার বাড়ির জলসায় গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপরই তিনি রোজ গার্ডেন প্যালেস তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৩১ সালে  পুরান ঢাকার  ঋষিকেশ দাস রোডে একটি বাগানবাড়ি তৈরী করা হয়। বাগানে প্রচুর গোলাপ গাছ থাকায় এর নাম হয় রোজ গার্ডেন। ভবনটি সজ্জিত করণের কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগেই ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যান। ১৯৩৭ সালে তিনি রোজ গার্ডেন প্যালেসটি  খান বাহদুর  আবদুর রশীদের কাছে বিক্রয় করে দিতে বাধ্য হন। প্রসাদটির নতুন নামকরণ হয় ‘রশীদ মঞ্জিল।

 

রোজ গার্ডেন প্যালেস ২২ বিঘা জমির উপর স্থাপিত হয়েছিল । ভবনটির মোট আয়তন সাত হাজার বর্গফুট। উচ্চতায় পঁয়তাল্লিশ ফুট। ছয়টি সুদৃঢ় থামের উপর এই প্রাসাদটি স্থাপিত। প্রতিটি থামে লতাপাতার কারুকাজ করা। প্রাসাদটির স্থাপত্যে-গ্রীক শৈলী অনুসরণ করা হয়েছে।

 

বাগানটি সুদৃশ্য ফোয়ারা, পাথরের মূর্তি ইত্যাদি দ্বারা সজ্জিত ছিল। মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি কামরা আর একটি বড় নাচঘর আছে। নিচতলায় আছে আটটি কামরা। রোজ গার্ডেন প্যালেসের পশ্চিম ও উত্তর দিকের দেয়ালের মধ্যবর্তী অংশে দুটি মূল ফটক আছে। প্রবেশ ও বর্হিগমনের জন্য স্থাপিত পশ্চিম দিকের ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে প্রথমেই আছে একটি বিস্তীর্ণ খোলা প্রাঙ্গণ। এখানে মঞ্চের ওপর দণ্ডায়মান নারী মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। পূর্বাংশের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে একটি আয়তকার পুকুর। পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মাঝামাঝি একটি করে বাঁধানো পাকা ঘাট আছে। এর পূর্ব দিকে আছে পশ্চিমমুখী একটি দোতলা ইমারত যার বর্তমান নাম ‘রশিদ মঞ্জিল’।