বাস-লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা: ১২ কৌশলে যাত্রী ঠকানোর মহোৎসব

ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করে বাস ও লঞ্চের প্রভাবশালী মালিক সমিতির নেতৃত্বে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে উছিলা করে সাধারণ যাত্রীদের ওপর ‘জুলুম’ চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, "তেলের দাম বাড়লে আনুপাতিক হারে ভাড়া বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মালিক সমিতি সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের পাঁয়তারা করছে। জনস্বার্থের ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে কেন এই লুকোচুরি? কেন মিডিয়া থেকে তথ্য গোপন করা হচ্ছে?"
তিনি অভিযোগ করেন, ভাড়া নিয়ে বাসে-লঞ্চে প্রতিদিন যাত্রীরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন, অথচ ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হিসেবে যাত্রীদের কোনো মতামত নেওয়া হচ্ছে না।
যাত্রী ঠকানোর ১২ ‘ফাঁদ’
সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাতে যাত্রী হয়রানি ও শোষণের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরা হয়:
আসন জালিয়াতি: ৫২ আসনের ভাড়ার তালিকায় ৬০ জনের ভাড়া আদায়।
ব্যয় বিশ্লেষণে কারসাজি: মালিকদের মর্জিমতো ২১টি ভুয়া উপাদান দেখিয়ে ভাড়া বৃদ্ধি।
লক্কড়-ঝক্কর বাসের উচ্চমূল্য: পুরোনো বাসকে নতুন ও দামী দেখিয়ে ভাড়ার টেবিলে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া।
ভুয়া রক্ষণাবেক্ষণ খরচ: টায়ার-টিউব ও পার্টসের অস্বাভাবিক মূল্য দেখিয়ে সাধারণের পকেট কাটা।
বেতন-বোনাস জালিয়াতি: স্টাফদের কোনো বেতন না দিলেও কাগজে-কলমে বেতন দেখিয়ে ভাড়া বাড়ানো।
বীমা জালিয়াতি: ইনস্যুরেন্স না থাকলেও সেই বাবদ খরচ দেখিয়ে ভাড়ার হার বাড়ানো।
মালিকদের মর্জিমতো তালিকা: স্টপেজ নির্ধারণ ও দূরত্ব চুরির মাধ্যমে পদে পদে প্রতারণা।
স্বল্প দূরত্বে শেষ গন্তব্যের ভাড়া: মাঝপথে নামলেও পুরো রাস্তার ভাড়া আদায়।
জ্বালানি বৈষম্য: সিএনজিচালিত বাসেও ডিজেলচালিত বাসের সমান ভাড়া আদায়।
ঈদে কৃত্রিম নৈরাজ্য: বোনাসের খরচ ভাড়ায় যুক্ত করলেও স্টাফদের বেতন-বোনাস না দেওয়া।
সময়ের বিবর্তনে ভাড়া বদল: বৃষ্টি, সন্ধ্যা বা বিশেষ দিনে ইচ্ছামতো বাড়তি ভাড়া আদায়।
প্রশাসনের নিরবতা: মন্ত্রী ও সরকারি কমিটির চারপাশে মালিক সমিতির নেতাদের দাপটে যাত্রীদের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্পষ্ট জানান, অতি সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ায় প্রতি কিলোমিটারে বড়জোর ১৫ পয়সা ভাড়া বাড়তে পারে। এর বেশি ভাড়া বাড়ানোর কোনো পাঁয়তারা করা হলে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এই সংকট সমাধানে এবং যাত্রী স্বার্থ রক্ষায় তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা পরিবহন খাতের এই ‘অশুভ আঁতাত’ ভেঙে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার দাবি জানান।

Desk Report
© 2026 Prime Tv. All rights reserved.









