সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং ভিআইপি সংস্কৃতির সংস্কারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এখন থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সফরে সরকারি যানবাহন বা আবাসনের সুবিধা নিলে তার খরচ নিজেদের পকেট থেকে দিতে হবে। সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নতুন একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি সফরসূচির চিঠিতে সফরটি সরকারি নাকি ব্যক্তিগত, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সরকারি কাজে ভ্রমণ করলে যানবাহন ও আবাসনের যাবতীয় ব্যবস্থা ও ব্যয় সরকার বহন করবে। দেশে বা বিদেশে ব্যক্তিগত ভ্রমণে সরকারি যানবাহন বা সার্কিট হাউজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যয় মন্ত্রীকে নিজেই পরিশোধ করতে হবে।

প্রটোকল দেওয়ার নামে কর্মকর্তাদের কাজের ব্যাঘাত কমাতেও বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বিমানবন্দরে যাতায়াতের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব উপস্থিত থাকবেন। ঢাকার অভ্যন্তরে যাতায়াতে সাথে থাকবেন একান্ত সচিব (পিএস)।

জেলা পর্যায়ে সফরের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) অভ্যর্থনা জানাবেন। তবে তারা চাইলে নিজ দায়িত্ব পরিবর্তন না করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। উপজেলা পর্যায়ে প্রটোকল দেবেন ইউএনও এবং সহকারী পুলিশ সুপার। অপ্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনেও প্রয়োজন না হলে শীর্ষ দুই কর্মকর্তার থাকার দরকার নেই নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সফরের ধরণ যাই হোক না কেন, সফরসূচি পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রীরা যদি সার্কিট হাউজের বাইরে বা ব্যক্তিগত বাসস্থানেও অবস্থান করেন, তবুও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলী কঠোরভাবে প্রযোজ্য থাকবে। রেলপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশকে সব গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এই নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা আগের প্রটোকল ও সফর সংক্রান্ত নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।