সংকুচিত আয় আর লাগামহীন ব্যয়ে হিমশিম মধ্যবিত্তের জীবন

প্রতিকি ছবি
দেশের অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় আর স্থবির আয়ের চাপ এখন সবচেয়ে বেশি আঘাত হানছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবনে। খরচের ভারে অনেক পরিবারই এখন কার্যত সংকটাপন্ন অবস্থায় পৌঁছে গেছে। কৃষি থেকে শুরু করে শিল্প, সেবা ও শহুরে জীবনের প্রতিটি স্তরে এই চাপের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জ্বালানি তেলের ঘাটতি, গ্যাস সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলপিজি বা গ্যাসের বদলে মাটির চুলার ওপর নির্ভর করছে। একইভাবে বাজারে ভোজ্য তেল, মাছ, সবজি থেকে শুরু করে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মজুরি বৈষম্য, বেকারত্ব এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ২০২৪ সালে এক লাখ ষাট হাজার মানুষ বেকার হয়েছেন বলে জানা যায়। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই আরও প্রায় একুশ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর তথ্য উঠে এসেছে বেসরকারি বিশ্লেষণে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত পরিবারের আয়ের প্রায় ৪২ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে শুধু খাদ্যসামগ্রীতে। বাকি আয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও পরিবহন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এক অধ্যাপক বলছেন, যাদের আয় ইতোমধ্যে সীমিত, তারা আরও বেশি করে দারিদ্র্যের নিচে নেমে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, দারিদ্র্যের হারও আবার ঊর্ধ্বমুখী। এর ফলে শুধু জীবনযাত্রাই নয়, শিক্ষা ও পুষ্টি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উৎপাদনশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

Desk Report
© 2026 Prime Tv. All rights reserved.









