কর্মক্ষেত্রে ‘ফ্রেন্ড বম্বিং’-এর শিকার হলেই চাকরি গেল !

ছবি- সংগৃহীত
কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা স্বাভাবিক বিষয় হলেও, অতি-আন্তরিকতা বা ‘ফ্রেন্ড বম্বিং’ (Friend Bombing) এখন বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি সম্প্রতি বেশ কিছু কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, কর্মক্ষেত্রে এই ফ্রেন্ড বম্বিংয়ের শিকার হলে যেকোনো মুহূর্তে হারাতে হতে পারে চাকরি।
‘ফ্রেন্ড বম্বিং’ হলো এমন এক ধরণের আচরণ, যেখানে কোনো নতুন বা টার্গেটেড সহকর্মীকে অতি দ্রুত নিজের দলে টানতে অতিরিক্ত প্রশংসা, উপহার বা কৃত্রিম বন্ধুত্বের জালে জড়ানো হয়। মূলত অফিসে নিজের প্রভাব বিস্তার বা কোনো গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে স্বার্থান্বেষী কর্মীরা এটি করে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৃত্রিম বন্ধুত্বের ফাঁদে পা দিলে কর্মীরা অজান্তেই অফিসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে কাজের মনোযোগ নষ্ট হয়, অফিসের গোপনীয় তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং পেশাদারিত্বের চরম অবমাননা ঘটে। অনেক সময় এই অতি-বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ব্ল্যাকমেইল বা মানসিক হেনস্থার ফাঁদ।
প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে অনেক কোম্পানি এখন ‘ফ্রেন্ড বম্বিং’ বা অতি-ঘনিষ্ঠতার সংস্কৃতিকে কঠোর চোখে দেখছে। তদন্তে এমন বিষাক্ত আচরণের প্রমাণ মিললেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তাৎক্ষণিক বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাই কর্মক্ষেত্রে অন্ধ আবেগের বশবর্তী না হয়ে, পেশাদার দূরত্বের সীমানা বজায় রাখাই চাকরি বাঁচানোর একমাত্র উপায়। ‘ফ্রেন্ড বম্বিং’ বলতে বোঝায় এমন বন্ধুত্ব, যা প্রলয়ের মতো ধ্বংস করে দিতে পারে আপনার শান্তিপূর্ণ জীবন।

বিথী রানী মন্ডল
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









