রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি’তে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) শুনানি শেষে ভবনের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারীসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছে আদালত। একই সঙ্গে মামলার পলাতক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, চার্জশিটভুক্ত ২২ আসামির মধ্যে ৯ জন এদিন আদালতে হাজির ছিলেন। অবশিষ্ট ১৩ জন অনুপস্থিত থাকায় আদালত তাদের গ্রেফতারে কঠোর নির্দেশনা দেন।

এর আগে, গত ২ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী দণ্ডবিধির সাতটি ধারায় আসামিদের অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে এবং কোনো রকম বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ভবনটিতে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিপজ্জনকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহারের ফলে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে সেখানে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

উল্লেখ্য, ওই রাতে ভবনটিতে লাগা আগুনে ৪৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে ৩ জন সম্পূর্ণ দগ্ধ হয়ে মারা যান। এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য ভবনটির গাফিলতি ও নিয়ম লঙ্ঘনকেই দায়ী করা হয়েছে। চার্জশিট গ্রহণ ও পরোয়ানা জারির মাধ্যমে নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে আশা করা যাচ্ছে।