অপারেশন সিন্দুর ২.০-এর জন্য প্রস্তুত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী- সেনাপ্রধান

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন হলে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পরবর্তী ধাপ বা “অপারেশন সিন্দুর ২.০”-এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
শনিবার পুনেতে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (এনডিএ)-এর ১৫০তম কোর্সের পাসিং আউট প্যারেডের ফাঁকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে সংঘর্ষবিরতি থাকলেও ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং যৌথ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “অপারেশন সিন্দুর এখনো চলমান। সাময়িক বিরতি থাকলেও প্রয়োজনে এর পরবর্তী ধাপের জন্য আমরা প্রস্তুত।”
সেনাপ্রধান বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু স্থল, নৌ বা আকাশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি মহাকাশ, সাইবার এবং তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র এখন অত্যন্ত স্বচ্ছ হয়ে গেছে, ফলে প্রতিটি গতিবিধি প্রতিপক্ষের নজরে থাকে। তাই বাহিনীর মোতায়েন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
জেনারেল দ্বিবেদী তথ্যযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে জনবিশ্বাস ও জাতীয় ঐক্যই হবে অন্যতম বড় শক্তি। তিনি বলেন, “যুদ্ধ শুধু মাঠে নয়, এটি মানসিক স্তরেও জয় করতে হয়।”
সেনাপ্রধান জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘ডেকেড অব ট্রান্সফরমেশন’ উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিকায়নের পথে এগোচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ড্রোন প্রযুক্তি, ডেটা-ভিত্তিক অপারেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ইউনিট গঠনের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি সৈনিককে ড্রোন পরিচালনায় সক্ষম করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে মাঠ পর্যায়ের সক্ষমতা আরও বাড়ে।
থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থা এগোচ্ছে
ভারতীয় সেনাবাহিনীর থিয়েটার কমান্ড গঠনের বিষয়েও অগ্রগতির কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, তিন বাহিনীর মধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং বিষয়টি এখন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন দেখা যেতে পারে।
অপারেশন সিন্দুরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেনাপ্রধান বলেন, অপারেশন সিন্দুর ভারতের সমন্বিত পরিকল্পনা, নির্ভুল লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
এনডিএ প্যারেডে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, আধুনিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “জাতীয় সংকল্প যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন সেটিই ভবিষ্যতের বিজয়ের মানদণ্ড তৈরি করে।”
প্রায় চার দশক আগে একই প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার স্মৃতিচারণ করে সেনাপ্রধান বলেন, সামরিক জীবনের শিক্ষা আজীবন মানুষের সঙ্গে থাকে।
সুত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্দিয়া
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।




