ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনা ও গুঞ্জনের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকটির লেনদেন কার্যক্রমে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। নগদ অর্থ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা, বুথে দীর্ঘ সারি এবং ডিজিটাল সেবায় বিঘ্নের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক গ্রাহক। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে এবং গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংকটির লেনদেন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নগদ অর্থ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা, এটিএম বুথে দীর্ঘ সারি এবং ডিজিটাল সেবায় বিঘ্নের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের আলোচনার পর থেকেই অনেক আমানতকারী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকটির এটিএম বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা দেয়। অনেক বুথ অচল হয়ে পড়েছে, আর যেগুলো সচল রয়েছে সেগুলোতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করা যাচ্ছে না।

একাধিক গ্রাহক জানান, চেকের মাধ্যমে টাকা তুলতে গেলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

একজন গ্রাহক বলেন, “আমার হিসাবে প্রায় ২০ লাখ টাকা রয়েছে। জমি কেনার জন্য ১৫ লাখ টাকা তুলতে এসেছিলাম। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা যাবে। প্রয়োজনের সময় টাকা না পেলে সেই হিসাব রেখে কী লাভ?”

নাজমুল গাজি নামে এক চাকরিজীবী জানান, তার বেতন ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে কয়েকদিন আগে। কিন্তু এখনও তিনি প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি। তার অভিযোগ, দিনে মাত্র একবার সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ফান্ড ট্রান্সফারের সুযোগ মিলছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, শহরের অধিকাংশ এটিএম বুথে সেবা মিলছে না। কোথাও কোথাও কার্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকের কিছু ডিজিটাল সেবাও কার্যকর নয় বলে দাবি করেন তারা।

নাজমুল গাজি আরও বলেন, “সেলফিন অ্যাপের মাধ্যমে ফান্ড ট্রান্সফার করা যাচ্ছে না। মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধাও ব্যবহার করতে পারছি না। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।”

এদিকে গ্রাহকদের উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন বা লেনদেনে কোনো ধরনের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তিনি সবাইকে গুজব ও আতঙ্ক এড়িয়ে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

তবে মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আশ্বাসের মধ্যে ব্যবধান থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। দ্রুত সেবার স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রাইমটিভি/এমএইচ