বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আজ

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস । সংগৃহীত
আজ ১ জুন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। দুধের পুষ্টিগুণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দুগ্ধ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
২০০১ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ১ জুন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এবারের বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সেলিব্রেটিং উইমেন ফার্মার্স’। আন্তর্জাতিক এ প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে দিবসটির জাতীয় প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’।
দিবসটি উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উদ্যোগে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র্যালি এবং দুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রাণিসম্পদ অধিদফতর প্রাঙ্গণে মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অধিদফতর প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে খামারবাড়ি মোড় ঘুরে কেআইবি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে নারী খামারিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবাদিপশুর পরিচর্যা, দুধ উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা এবং খামার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে নারীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তাদের অবদান গ্রামীণ অর্থনীতি, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট দুধ উৎপাদন হয়েছে ১৫৫ দশমিক ৩৮ লাখ মেট্রিক টন। একই সময়ে মোট চাহিদা ছিল ১৬২ দশমিক ২২ লাখ মেট্রিক টন। ফলে জাতীয় চাহিদার প্রায় ৯৬ শতাংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া প্রতিদিন মাথাপিছু ২৫০ মিলিলিটার দুধ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে দেশে সরবরাহ নিশ্চিত করা গেছে ২৩৯ দশমিক ২৯ মিলিলিটার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুগ্ধ খামারের দৈনন্দিন কার্যক্রমের ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ শ্রম নারীরা প্রদান করেন। তাদের এই অবদান দেশের দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের দুগ্ধ খাতে নারী খামারিদের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









