দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তবে চিকিৎসকদের শহরমুখী প্রবণতার কারণে স্বাস্থ্যসেবায় বণ্টনগত সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এ আয়োজিত দুটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্ভাবনা: সুযোগ, চ্যালেঞ্জ এবং নীতিগত প্রয়োজনীয়তা’ এবং ‘মহামারী রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রামে বসবাস করলেও চিকিৎসকদের ৮০ শতাংশই শহরে অবস্থান করেন। ফলে জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা যথেষ্ট থাকলেও সেবার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, “দেশে পর্যাপ্ত ডাক্তার রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের বণ্টন সঠিক নয়। যারা চিকিৎসক আছেন, তাদের একটি ছোট অংশ সরকারি ব্যবস্থায় কাজ করেন, আর বড় একটি অংশ বেসরকারি খাতে নিয়োজিত।”

স্বাস্থ্যখাতে শুধু চিকিৎসক নয়, নার্স ও মিডওয়াইফের সংখ্যাও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা শুধু ডাক্তার তৈরির বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। অথচ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নার্স ও মিডওয়াইফের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আরও আলোচনা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।”

ফিজিওথেরাপিস্টদের অবদানও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ড. মুহিত। তিনি বলেন, দেশে স্বাস্থ্যসেবায় ফিজিওথেরাপিস্টদের প্রয়োজনীয়তা অনেক হলেও তাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। এ খাতেও গুরুত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

চিকিৎসকদের বিদেশে পাঠানোর বিষয়েও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ডাক্তার বিদেশে গেলেই দেশে রেমিট্যান্স আসবে এমন নয়। অনেকে বিদেশে স্থায়ী হয়ে যান এবং মাঝে মাঝে দেশে আসেন।”

করোনাকালে চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার দায় চিকিৎসকদের ওপর চাপিয়ে দিই। কিন্তু করোনার সময় তারা ভয় ও ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবায় কাজ করেছেন। ভবিষ্যতেও এমন চ্যালেঞ্জ আসতে পারে।”

ভাইরাস ও মহামারি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতকে উৎসাহ দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসক সংকট নিরসনে তাদের গ্রামমুখী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নিপোর্টের মহাপরিচালক ইসরাত জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রাইমটিভি/কেআর