বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

ছবি: সংগৃহীত- স্বর্ণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়াই থমকে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। গত ১০ সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে শান্তির যে ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বাড়ছে, যার বিপরীতে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণের বাজার।
সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৫৭.৮৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও ১.৪ শতাংশ কমে ৪,৬৬৫.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত শান্তি চুক্তির আশা ভেস্তে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বাজার নিয়ে নতুন করে হিসাব নিকাশ শুরু করেছেন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ইরান ও লেবাননে চলমান সংঘাতের ফলে নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় তেলের বাজার এখন অত্যন্ত উত্তপ্ত। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, "তাৎক্ষণিক শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।" তেলের দাম বাড়ার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হতে পারে, যা স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মতে, এই যুদ্ধ বর্তমানে বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।










