বাংলাদেশে বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও একাডেমিক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে কেকুলিয়ন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (কেআরটিসি)। প্রতিষ্ঠানটি ফলিত বিজ্ঞান শিক্ষার বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, গবেষণা সংস্কৃতির বিকাশ, পরীক্ষাগারভিত্তিক শিক্ষা, একাডেমিয়া-শিল্পখাত সহযোগিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা, সংলাপ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের জন্য গবেষণামুখী শিক্ষা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেআরটিসি পরিচালিত গবেষণা, পর্যবেক্ষণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক আলোচনায় উঠে এসেছে যে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করলেও গবেষণা দক্ষতা, আধুনিক পরীক্ষাগার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। এর ফলে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ গড়ে ওঠা অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় কেআরটিসি গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাডেমিক সেমিনার, গবেষণাভিত্তিক আলোচনা, অংশীজন সংলাপ, শিক্ষার্থী সম্পৃক্ততা কার্যক্রম এবং নীতি-সংলাপের আয়োজন করে আসছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ফলিত বিজ্ঞান শিক্ষার বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্য পথ অনুসন্ধান করা।

কেআরটিসি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং এই উদ্যোগের গবেষণা সমন্বয়কারী মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পখাত এবং দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা জরুরি। শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষাই নয়, গবেষণামুখী শিক্ষা, আধুনিক পরীক্ষাগারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, একাডেমিয়া-শিল্পখাত সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা, গবেষণা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগই এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।”

এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় কেআরটিসি আগামী জাতীয় একাডেমিক সেমিনার ২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষায় তত্ত্ব ও বাস্তবতার ব্যবধান দূরীকরণে একাডেমিক সংলাপ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিতব্য এ সেমিনারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সেমিনারে বিজ্ঞান শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, পরীক্ষাগারভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

কেআরটিসি বিশ্বাস করে, বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণাকে বাস্তব দক্ষতা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা গেলে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে এটি টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রাইমটিভি/এনজি