"অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নারীদের দেবীর মতো পুজো করা হয়" : অভিনেত্রী কিয়ারা

ছবি- সংগৃহীত অভিনেত্রী কিয়ারা আদবানি
অভিনেত্রী কিয়ারা আদবানির এই বক্তব্যটি বর্তমান সমাজের একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এক নির্মম ও রূঢ় বাস্তবতাকে আমাদের সামনে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আমাদের সমাজে মাতৃত্বকে চিরকালই এক পরম পবিত্র ও উচ্চ আসনে বসানো হয়েছে। সন্তানসম্ভবা একজন নারীকে ঘিরে পরিবারের আনন্দ, উদ্যাপন আর যত্নের কোনো কমতি থাকে না। কিয়ারা যথার্থই বলেছেন, এই সময়টাতে একজন হবু মাকে ‘দেবীর’ রূপক দিয়ে আক্ষরিক অর্থেই পুজো করা হয়, তার প্রতিটি চাওয়া-পাওয়াকে মাথায় তুলে রাখা হয়।

কিন্তু আসল বৈপরীত্য ও মানসিক নিষ্ঠুরতা শুরু হয় সন্তান জন্মের ঠিক পর মুহূর্ত থেকে। যে সমাজ কদিন আগেও ওই নারীর শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের প্রতি সহনশীল ছিল, সেই সমাজই হঠাৎ করে ভীষণ নির্মম হয়ে ওঠে। সন্তান প্রসবের পর একজন মায়ের শরীর ও মনে যে হরমোনজনিত এবং গঠনগত ব্যাপক পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে শুরু হয় কাটাছেঁড়া। "ওজন বেড়ে গেছে", "ত্বক নষ্ট হয়ে গেছে", "আগের মতো গ্ল্যামার নেই" এমন অজস্র স্থূল ও স্পর্শকাতর মন্তব্য ছুঁড়ে দেওয়া হয় তার দিকে। অথচ, একটি নতুন জীবনকে পৃথিবীতে আনার পেছনে তাঁর শরীরকে যে কী পরিমাণ ধকল ও কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেই সত্যটাকে সমাজ সম্পূর্ণ ভুলে যায়।

শুধু শারীরিক গঠনই নয়, সন্তান লালন-পালনের খুঁটিনাটি নিয়েও শুরু হয় অন্তহীন সমালোচনা ও জাজমেন্ট। মা ঠিকমতো খাওয়াচ্ছেন কি না, বাচ্চার যত্ন নিতে পারছেন কি না এমন শত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে, যা একজন নতুন মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। প্রসবোত্তর বিষণ্ণতা বা 'পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন' যখন একজন নারীর জন্য সবচেয়ে বড় লড়াই, ঠিক তখনই সমাজের এই রূপান্তর হবু মায়ের মানসিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
কিয়ারা আদবানি নিজে মা হওয়ার পর এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে যে আওয়াজ তুলেছেন, তা আজ প্রতিটি নারীর মনের কথা। মাতৃত্ব কোনো সাময়িক উৎসব নয় যে, সন্তান জন্মের পরদিনই সেই মায়ের প্রতি সমস্ত সহানুভূতি শেষ হয়ে যাবে। একজন সদ্য মা হওয়া নারীর এই নতুন পথচলায় কোনো সমালোচনা বা কটাক্ষ নয়, বরং প্রয়োজন নিঃশর্ত ভালোবাসা, মানসিক সমর্থন এবং পরম যত্ন। শারীরিক পরিবর্তনের চেয়ে তার মানসিক সুস্থতা ও নতুন জীবনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার লড়াইটাকে সম্মান জানানো উচিত। সমাজের এই দ্বিচারিতা ও সংকীর্ণ মানসিকতার অবসান ঘটিয়ে নারীদের প্রতি সহমর্মী হওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
প্রাইমটিভি/বিএম

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






