‘সিনেমায় শুধুই গালি, মাদক আর মারামারি’ : প্রিন্স মাহমুদের ক্ষোভ

ছবি- সংগৃহীত প্রিন্স মাহমুদ
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের চলচ্চিত্র ও নাটকের দৃশ্যে মাদক, অতিরিক্ত সহিংসতা এবং নারী বিদ্বেষের মতো নেতিবাচক বিষয়গুলো বারবার উঠে আসছে। এসব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সমালোচনা হলেও এবার বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ। তিনি এই ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট বা ছবি প্রচার অবিলম্বে বন্ধের পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি এক ফেসবুক বার্তায় প্রিন্স মাহমুদ লেখেন, “দেশের চলচ্চিত্র এবং নাটকে মাদক, অতিরিক্ত সহিংসতা এবং নারীদের অবমাননামূলক প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে এ ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট প্রচার যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করা হোক। শিশু রামিসার বিচারের দাবি করবেন আবার বিনোদন মাধ্যমে ক্ষতিকর উপাদানগুলো দিয়ে সমাজে বিকৃত মানসিকতা তৈরি করবেন, অপরাধকে গ্ল্যামারাইজ করবেন, এ কেমন দ্বিচারিতা?”
এই বার্তার মন্তব্যের ঘরে আরও বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বিনোদন মাধ্যমের এই দ্বিচারিতাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। বিদ্যমান আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে বিদ্যমান পেনাল কোড (১৮৬০) এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিজের বেলায় আইন আর অপরের বেলায় ভিন্ন নিয়ম?”
একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, “আমাদের নিজেদের বিবিধ প্রতিষ্ঠান, শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা এর সাথে জড়িত, যারা নিজেরাই সময়-অসময়ে শিল্পীদের নিয়ে মাদক ও সহিংসতা বিরোধী প্রচার চালান, আবার এসব কন্টেন্টে পয়সা বিনিয়োগ করেন, কী আশ্চর্য! ইদানিং আবার সিনেমা হলে বয়োজ্যেষ্ঠদের দিয়ে এসব কন্টেন্টের প্রশংসা করানো হচ্ছে। কী লজ্জা ছিঃ! এদের প্রত্যেককে দাগযুক্ত করুন।”
উল্লেখ্য, বিনোদন মাধ্যমে মাদকের প্রদর্শন ও সহিংসতা নিয়ে অতীতেও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে নির্মাতা ও শিল্পীদের একাংশের দাবি— গল্পের প্রয়োজনে কিংবা দর্শকের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এসব দৃশ্য পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়। যদিও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকের কাছেই এই ধরনের যুক্তিকে এখন ‘অযৌক্তিক’ বলে মনে হচ্ছে।
প্রাইমটিভি/বিএম

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






