ছোট পর্দার বর্তমান সময়ের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ তাসনুভা তিশা। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা নাটক— সবখানেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন এই অভিনেত্রী। তবে অভিনয়ে এখন নিয়মিত হলেও শৈশব বা কৈশোরে তার স্বপ্ন কিন্তু অভিনেত্রী হওয়া ছিল না। বরং তিনি হতে চেয়েছিলেন সংবাদ উপস্থাপিকা কিংবা রেডিও জকি (আরজে)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো ও বড় পর্দায় কাজ করা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়া প্রসঙ্গে তাসনুভা তিশা জানান, ওভাবে তিনি এখনও বড় পর্দায় কাজ করেননি, তবে কিছু ওয়েব ফিল্ম করেছেন। বড় পর্দায় দেখা যাওয়া প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, “আমিও জানি না কবে দেখব। আসলে আমার প্ল্যানিং-এ কী আর হবে? বড় কোনো প্রোডাকশন হাউস, পরিচালক কিংবা প্রযোজক যদি ডাকেন এবং গল্পসহ সবকিছু যদি মিলে যায়, তবেই সেটা সম্ভব। সিনেমা অনেক বড় বিষয়, হুট করে তো হয় না। আল্লাহ যদি কপালে রাখেন, তবে অবশ্যই সিনেমা হবে।”

নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিশা বলেন, “আমি তখন কাজ করার পাশাপাশি পড়াশোনাও করতাম। সেই সময়টা খুব স্ট্রাগলিং একটা পিরিয়ড ছিল।” মডেলিং দিয়ে মিডিয়ায় পা রাখলেও সেখানে স্থায়ী না হওয়ার একটি মজার কারণও জানান তিনি।

image_1780472650123

২০১৩ সালের দিকে ম্যাগাজিন বা শাড়ির ফটোশুট দিয়ে তার পথচলা শুরু হয়েছিল। আর এর পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তার এক প্রবাসে থাকা বান্ধবীর। তিশার কথায়, “আমার এক বান্ধবী আনমোল, ও এখন দেশের বাইরে থাকে। তখন ও একটা অনলাইন বুটিক শুরু করেছিল। ওই আমাকে জোর করে ক্যামেরার সামনে নিয়ে যায়। আমি তো ভীষণ নার্ভাস ছিলাম, জানতামই না কীভাবে ছবি তুলতে হয়।”

মডেলিং নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “রাস্তায় আড়ংয়ের বড় বড় বিলবোর্ড দেখে মনে হতো, ইস! আমি যদি কখনো বিলবোর্ডের মডেল হতে পারতাম! কিন্তু পরে রিয়ালাইজ করলাম, মডেলদের চেহারা যেমন কাটাকাটা হতে হয়, আমারটা তেমন নয়; একটু গোলগাল। তাই আমাকে দিয়ে আসলে ওই অর্থে মডেলিংটা হবে না।”

অভিনয়ে আসার আগের সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে তাসনুভা তিশা বলেন, “আমার নিউজ প্রেজেন্টার হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। টিভির নিচে যে স্ক্রলিং নিউজ যেত, আমি সেগুলো জোরে জোরে পড়তাম। ভাবতাম, ইস! আমি যদি নিউজ প্রেজেন্টার হতে পারতাম! এরপর ক্লাস নাইনে যখন পড়ি, তখন দেশে মাত্র এফএম রেডিও চালু হয়েছে। রেডিও ফুর্তি বা রেডিও টুডেতে আরজেদের কথা শুনে মুগ্ধ হতাম। মনে হতো আমিও যদি আরজে হতে পারতাম! কখনো ভাবিনি যে অ্যাক্টিং করব বা এই প্রফেশনে আসব।”

প্রাইমটিভি/বিএম