চিন-রাশিয়ার জন্য রাখা মিসাইল ইরানেই শেষঃ তীব্র সংকটে মার্কিন প্রতিরক্ষা খাত

ছবি- সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহার করায় নিজস্ব সামরিক মজুত নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র ৩৮ দিনের এই সংঘাতে পেন্টাগন এমন সব দামী এবং উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করেছে, যা মূলত রাশিয়া বা চীনের মতো পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সংরক্ষিত ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে মার্কিন সেনারা এখন পর্যন্ত ১২০০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং ১০০০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা বোঝাতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক বছরে আমেরিকা যতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছিল, এই কয়েক দিনেই তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ব্যবহৃত হয়ে গেছে। বিশেষ করে JASSM-ER ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি, আমেরিকার হাতে থাকা ১৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১১০০টিই এই যুদ্ধে শেষ হয়ে গেছে।
গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, গত ৩৮ দিনের যুদ্ধে আমেরিকার মোট খরচের পরিমাণ ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। অর্থাৎ, এই যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ খরচ হয়েছে, যা মার্কিন করদাতাদের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি JASSM-ER ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ লক্ষ ডলার।
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা স্বীকার করেছে। এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের যোগান দিতে ইউরোপ এবং এশিয়ায় মোতায়েন করা মার্কিন কমান্ডগুলো থেকেও অস্ত্র সরিয়ে ইরানে আনা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভারসাম্য দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র সেবা কমিটির প্রধান জ্যাক রিড গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বর্তমানে যে হারে অস্ত্র উৎপাদন হচ্ছে, তাতে এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
তবে এই ভয়াবহ সংকটের খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির অধিকারী এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট অস্ত্র তাদের কাছে এখনো মজুত আছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সস্তা ড্রোন বা সাধারণ আক্রমণের মুখে কয়েক মিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য পেন্টাগনের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








