ইরানের একটি কার্গো জাহাজ আটকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মার্কিন বাহিনী কর্তৃক আটককৃত ইরান-পতাকাবাহী জাহাজটিকে ট্রাম্প ‘চীনের উপহার’ বলে অভিহিত করলেও চীন এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

সম্প্রতি ওমান সাগরে ‘তুসকা (TOUSKA)’ নামক একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করে মার্কিন নৌবাহিনী। এই ঘটনার পর এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, জাহাজটিতে থাকা মালামাল সম্ভবত চীনের পক্ষ থেকে ইরানের জন্য একটি উপহার ছিল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এর কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে স্বাভাবিক নিয়মে চলতে দেওয়া উচিত। এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ পরিস্থিতিকে অযথাই জটিল করে তোলে।” বেইজিং মুখপাত্র আরও জানিয়েছে, তারা সবসময় আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে এবং একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে চীন লিপ্ত নয়।

গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ আরও কঠোর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কোনো জাহাজ যেন প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

মার্কিন অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ-চলাচল সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, তুসকা জাহাজটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আটক করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে তারা জাতিসংঘে অভিযোগ জানিয়েছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে অন্য দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান, যা বৈশ্বিক তেল বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং নৌ-অবরোধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট এখন কেবল আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এতে বড় শক্তিগুলোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।