কলম্বিয়ার দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুখোমুখি বাম–ডান দুই প্রার্থী

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুখোমুখি বাম–ডান দুই প্রার্থী । সংগৃহীত
কোনো প্রার্থী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়িয়েছে দ্বিতীয় দফায়। আগামী ২১ জুন দেশটির বামপন্থী সিনেটর ইভান সেপেদা এবং ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়িয়ার মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই হবে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
রোববারের (৩১ মে) ভোটে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভক্ত হিসেবে পরিচিত ডানপন্থী প্রার্থী দে লা এসপ্রিয়িয়া ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকেন। প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মিত্র বামপন্থী সিনেটর সেপেদা পান ৪১ শতাংশ ভোট। তবে কেউই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়াচ্ছে।
ফল ঘোষণার পর দে লা এসপ্রিয়িয়া বলেন, দ্বিতীয় দফায় তিনি ‘স্বৈরতন্ত্র ও একচেটিয়া আধিপত্যকে পরাজিত’ করবেন। তিনি ফলাফলকে রাষ্ট্রনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি বিজয় বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে সেপেদা বলেন, বিচারকদের মাধ্যমে ভোট গণনা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তিনি মন্তব্য করবেন না। প্রেসিডেন্ট পেত্রো প্রাথমিক ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
সহিংসতা, ড্রোন হামলা, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন ছিল কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিল। দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
দুই প্রার্থীর মূল পার্থক্য দেখা যাচ্ছে নিরাপত্তা ও সশস্ত্র সংঘাত মোকাবিলার নীতিতে। ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির আলোচনায় ভূমিকা রাখা সেপেদা প্রেসিডেন্ট পেত্রোর ‘পরিপূর্ণ শান্তি’ নীতির সমর্থক। এই নীতিতে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনাকে সামরিক অভিযানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে পেত্রোর আমলে কোকেন উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত অঞ্চলে সহিংসতা বাড়ায় সমালোচকরা এ কৌশলকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও পেত্রো দাবি করেন, তার সরকার ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি মাদক জব্দ করেছে।
অন্যদিকে আইনজীবী ও ব্যবসায়ী দে লা এসপ্রিয়িয়া কঠোর নিরাপত্তানীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অপরাধ দমনে সামরিক ক্ষমতা বাড়ানো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, মাদকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং এল সালভাদরের ধাঁচে ১০টি ‘মেগা-কারাগার’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আসন্ন রানঅফ শুধু কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। সেপেদা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে দে লা এসপ্রিয়িয়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিরাপত্তা জোট আরও শক্তিশালী করার পক্ষে।
নির্বাচনের ফল প্রতিবেশী ইকুয়েডরের সঙ্গেও সম্পর্ক প্রভাবিত করতে পারে। সম্প্রতি ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া দাবি করেছেন, দে লা এসপ্রিয়িয়ার সঙ্গে তার সীমান্ত নিরাপত্তা ও শুল্ক ইস্যুতে সমঝোতা হয়েছে। তবে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে নির্বাচনে ‘ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপ’ বলে অভিযোগ করেছে।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









