আটলান্টিকে রুশ তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ফ্রান্স

ফরাসি নৌবাহিনীর সদস্যরা রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ বলে দাবি করা একটি তেলবাহী ট্যাংকার পর্যবেক্ষণ করছেন। ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্র দেশগুলোর সহায়তায় আটলান্টিক মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি রুশ তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে ফ্রান্স। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
রোববার ব্রিটানির পশ্চিমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রায় ৪০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘টাগর’ নামের জাহাজটিতে অভিযান চালায় ফরাসি নৌবাহিনী। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের দাবি, আটক হওয়ার সময় জাহাজটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ম্যাক্রোঁ লিখেছেন, “আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া, সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করা এবং চার বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধকে অর্থায়ন করা, এর কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তবে এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এই জব্দ অভিযান আন্তর্জাতিক জলদস্যুতার কাছাকাছি চলে গেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিজেদের পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে মস্কো।
ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করে আসছে। অস্পষ্ট মালিকানার কাঠামো ব্যবহার করা এসব জাহাজের মাধ্যমে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে দেশটি।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটি চতুর্থবারের মতো কোনো রুশ জাহাজে অভিযান চালানো হলো। এর আগে জরিমানা আদায়ের পর কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও এখন থেকে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে প্যারিস।
ম্যাক্রোঁ বলেন, অভিযানটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে। তার ভাষায়, “মৌলিক নৌ-নিরাপত্তা বিধি না মানা এসব জাহাজ শুধু আইন লঙ্ঘনই করে না, পরিবেশ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে।”
এদিকে, মার্চে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ জাহাজে সামরিক বাহিনী দিয়ে তল্লাশি চালানোর অনুমোদন দেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এরপরও শতাধিক রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজ ব্রিটিশ জলসীমা ব্যবহার করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









