হরমুজ প্রণালী ঘিরে ভুরাজনৈতিক জটিলতা সহসাই কমছেনা, আল জাজিরার বিশ্লেষণ

হরমুজ প্রণালীতে ভাসমান তেলবাহী জাহাজ। ছবি:রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা সাময়িকভাবে বৈশ্বিক বাজারে স্বস্তি আনতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকটের প্রকৃত গুরুত্ব কেবল বাণিজ্যপথ খোলা বা বন্ধ থাকার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এসব পথের নিয়ন্ত্রণ ও শর্ত নির্ধারণের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সেটিই এখন মূল ইস্যু। আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে এমনটাই বলা হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, কৌশলগত সমুদ্রপথগুলো এখন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার আওতায় চলে যাচ্ছে, যেখানে বাণিজ্যিক প্রবাহ আর পুরোপুরি বাজারনির্ভর নয় বরং ভূরাজনৈতিক চাপ, সামরিক উপস্থিতি ও কূটনৈতিক দরকষাকষির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান হরমুজ প্রণালী পরিচালনার জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে রুট নির্ধারণ, ট্রানজিট ফি এবং নৌপরিবহনের শর্ত নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। এতে প্রণালীটি কেবল একটি ট্রানজিট রুট না থেকে শাসনব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হলো “অ্যাক্সেস” থেকে “গভর্ন্যান্স”এ রূপান্তর। অর্থাৎ জাহাজ চলাচল সম্ভব কি না, এই প্রশ্নের পাশাপাশি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কে নিয়ম তৈরি করবে এবং কোন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকবে বা শর্তাধীন হবে।
এশিয়ার অর্থনীতি, বিশেষত চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, এই অনিশ্চয়তার প্রধান ভোক্তা হিসেবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোও জ্বালানি ও শিপিং ব্যয়ের ওঠানামার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে, যদিও বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা সীমিত।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য হয়তো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে না, তবে তা বারবার রাজনৈতিক সমঝোতা ও পুনঃআলোচনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এতে স্বাভাবিকতা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে পার্থক্য আরও স্পষ্ট হবে, যেখানে সাময়িক উত্তেজনা কমে এলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মাঝে আস্থার সংকটও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এমন পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে, যেখানে শিপিং, বীমা, জ্বালানি ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তগুলো ক্রমেই ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে, বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ সংকট বৈশ্বিকায়নের অবসান নয়, বরং তার রাজনৈতিকভাবে আরও সংবেদনশীল ও শর্তাধীন রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









