নিউইয়র্কে ইসরায়েল দিবসের র্যালিতে অনুপস্থিত মামদানি, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ষাটের দশক থেকে আয়োজিত হয়ে আসা ইসরায়েল দিবসের র্যালিতে নিউইয়র্কের মেয়রদের অংশগ্রহণের রীতি রয়েছে। ছবি: রয়টার্স
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি রোববার অনুষ্ঠিত বার্ষিক ইসরায়েল দিবসের র্যালিতে অংশ নেননি। কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো মেয়র এই আয়োজনে অনুপস্থিত থাকলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এ খবরটি জানিয়েছে।
১৯৬০-এর দশক থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজিত এই র্যালি নিউইয়র্কে ইসরায়েলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উদযাপিত হয়ে আসছে। শহরটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সবচেয়ে বড় ইহুদি জনগোষ্ঠী বসবাস করে, ফলে অতীতের প্রায় সব মেয়রই এই আয়োজনে উপস্থিত থাকতেন।
এ বছরও ম্যানহাটনে হাজারো মানুষ ইসরায়েলি পতাকা ও নীল-সাদা বেলুন নিয়ে র্যালিতে অংশ নেন। অনেককে “আই লসাভ ইসরায়েল” লেখা টি-শার্ট পরেও দেখা যায়।
তবে মেয়র মামদানি আগেই জানিয়েছিলেন তিনি এই র্যালিতে অংশ নেবেন না। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলি সরকারের বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট।
নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে পরিচিত মামদানি ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে “গণহত্যা” বলে উল্লেখ করেছেন, যদিও ইসরায়েল সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সম্প্রতি তার দপ্তর ১৯৪৮ সালের নাকবা স্মরণে একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকে “ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের সমান অধিকারের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্যারেডে অনুপস্থিত থাকলেও শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেন মেয়র। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ উপস্থিত ছিলেন।
মামদানির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি কূটনীতিকরা। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, এটি ইহুদি সম্প্রদায় ও ইসরায়েল সমর্থকদের প্রতি অবজ্ঞার বার্তা।
প্রাক্তন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও বিষয়টি সমালোচনা করে বলেন, এটি নেতৃত্বের দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল-সমর্থন নিয়ে জনমত ক্রমশ বিভক্ত হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত। বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









