খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ‘ঘোস্ট কিচেন’ বা ভৌত দোকানবিহীন খাবার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, খাবার সরবরাহকারী অ্যাপগুলোকে এখন থেকে রেস্তোরাঁর লাইসেন্স ও কার্যক্রম পরিচালনার ঠিকানা যাচাই করতে হবে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, খাবার ডেলিভারি অ্যাপে দোকানের তালিকা অবশ্যই বাস্তব দোকানের সঙ্গে মিলতে হবে। এছাড়া যেসব বিক্রেতা বসে খাওয়ার ব্যবস্থা রাখে না, তাদের তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

গত বছর বেইজিংয়ে এক ব্যক্তি খাবার সরবরাহ অ্যাপ থেকে অখাদ্য ফুল দিয়ে সাজানো একটি কেক পেয়ে অভিযোগ করার পর বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কেক চেইনটি বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রায় ৩৮০টি শাখার দাবি করলেও তাদের কোনো বাস্তব দোকান ছিল না। এমনকি তারা জাল ব্যবসায়িক লাইসেন্সও ব্যবহার করছিল।

পরবর্তী তদন্তে দেখা যায়, এসব দোকানের অর্ডার তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের কাছে কম দরদাতাদের ভিত্তিতে সরবরাহ করা হতো। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুটি অর্ডার-ট্রান্সফার প্ল্যাটফর্মে মোট ৩৬ লাখ কেক অর্ডারের তথ্য পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষ সাতটি বড় খাবার সরবরাহ প্ল্যাটফর্মে মোট ৬৭ হাজার ‘ঘোস্ট শপ’ শনাক্ত করেছে। তদন্তে বলা হয়, এসব প্ল্যাটফর্ম ও অর্ডার-ট্রান্সফার সাইট এক ধরনের অবৈধ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলেছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খাবার সরবরাহ প্ল্যাটফর্মগুলোর কিছু কর্মী স্বীকার করেছেন যে, কঠোর যাচাই করলে বিক্রেতারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে, এ কারণে অনেক সময় তারা শিথিল অবস্থান নিয়েছে।

চীনের খাবার সরবরাহ খাতে তীব্র প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের উদ্বেগের কারণ। গত বছর বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল্যযুদ্ধ নিয়েও সতর্ক করেছিল কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে দ্রুত ডেলিভারির চাপের কারণে ডেলিভারি কর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ঘোস্ট ডেলিভারি’সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সাতটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মকে মোট ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউয়ান জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে কিছু বিক্রেতাও উদ্যোগ নিয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় হাংঝৌ শহরের ২০টির বেশি খাবারের স্টলে ‘স্বচ্ছ রান্নাঘর’ চালু করা হয়েছে, যেখানে সরাসরি রান্নার প্রক্রিয়া দেখা যায়। পাশাপাশি আনহুই প্রদেশে কর্তৃপক্ষ খাবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার ও অবৈধ রেস্তোরাঁর তথ্যদাতাদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে।