কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর নানিউকিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ইবোলা আইসোলেশন কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতায় বিক্ষোভের মধ্যে গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি কাছাকাছি লাইসিপিয়া বিমানঘাঁটিতে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি জানিয়েছে।

নিহতদের একজনকে বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজনকে সেনাসদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তিনি মারা যান। তবে কী পরিস্থিতিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সোমবার শত শত বিক্ষোভকারী নানিউকির সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। তারা রাস্তা অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।

স্থানীয় কমিউনিটি নেতা প্যাট্রিক ওয়াহোমে জানান, নিহতদের একজন ব্যবসার কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালের মর্গে রাখা দুই মরদেহেই গুলির চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫০ শয্যার এই ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্রটি পরিচালনা করবেন মার্কিন চিকিৎসকরা। বর্তমানে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য এটি ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেনিয়ায় কোনো ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়নি।

গত শুক্রবার দেশটির হাইকোর্ট জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেয়। মঙ্গলবার আদালত সেই স্থগিতাদেশ আরও বাড়িয়ে সরকারকে পরিকল্পিত কেন্দ্রের বিস্তারিত প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো পরিকল্পনাটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, কেনিয়া দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সমঝোতার’ ভিত্তিতে তিনি এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছেন।

রুটো বলেন, “এ ধরনের গুরুতর বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আমরা জানি আমরা কী করছি।”

তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। কেনিয়ার চিকিৎসক সংগঠন এবং সরকারি নজরদারি সংস্থাগুলোও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে স্থানীয় জনগণ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে।