লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি খবর জানিয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোনালাপে ট্রাম্প ইসরায়েলের লেবানন নীতি বৈরুতে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নেতানিয়াহুকে পাগল বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

অ্যাক্সিওসের বরাতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প বৈরুত লক্ষ্য করে হামলার ইসরায়েলি পরিকল্পনা থামানোর চেষ্টা করেন এবং সতর্ক করেন যে ধরনের পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করবে।

ফোনালাপে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি অতীতে নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে সহায়তা করেছেন, এমনকি দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গও তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে ক্ষুব্ধভাবে প্রশ্ন করেন, “এগুলো কি করছো তুমি?”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের লেবানন অভিযানকে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে যখন এতে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।

ফোনালাপের পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইসরায়েল বৈরুতের দিকে আর অগ্রসর হবে না এবং সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই গোলাগুলি বন্ধে সম্মত হয়েছে।

তবে নেতানিয়াহু পরবর্তীতে জানান, ইসরায়েল হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়নি বরং হিজবুল্লাহ হামলা চালালে বৈরুতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চলবে।

এদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, লেবাননে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর মধ্যে মধ্য এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক সংঘর্ষ পাল্টা হামলায় তা ভঙ্গ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কূটনৈতিক আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠছে।