রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডনিপ্রোসহ বিভিন্ন শহরে অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। মস্কোর সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার সতর্কতার কয়েকদিন পর এ হামলা চালানো হলো। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।  

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকোর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে রাতভর হামলায় চারজন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে বহুতল ভবনের ওপর বড় বিস্ফোরণ ও ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

একটি হামলার স্থানে ছয় বছর বয়সী মেয়ে নাতালিয়াকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ওলহা মুদ্রা বলেন, “কি ঘটছে আমরা বুঝতেই পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল যেন কোনো প্রলয় নেমে এসেছে। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর ধোঁয়া, কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।”

ক্লিচকো জানান, একটি ২৪ তলা আবাসিক ভবনে সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ভবনের অংশ ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে নয়তলা একটি ভবনসহ আরও কয়েকটি স্থাপনায় আগুন লাগে। রাজধানীর ওবোলন জেলায় ধ্বংসাবশেষ পড়ে গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

হামলার সময় আশ্রয়ের জন্য হাজারো মানুষ কিয়েভ মেট্রো স্টেশনে ছুটে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গদি নিয়ে সেখানে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার ভোরের পরও রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ডনিপ্রো ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা। তিনি বলেন, আহত সবাই মাঝারি অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রকাশিত ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, পুড়ে যাওয়া যানবাহন ও ক্ষতিগ্রস্ত শিশু পার্ক দেখা যায়।

সোমবার রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার সতর্কতা দিয়ে বলেন, “রুশ হামলা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা এখনো কার্যকর রয়েছে। বড় ধরনের হামলা হতে পারে। তারা প্রস্তুতি নিয়েছে।”

খারকিভ অঞ্চলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইহর তেরেখভ।

অন্যদিকে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলও পাল্টা হামলার মুখে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আগুন লাগে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একটি বাড়িতে আঘাত হানলে ১১ বছর বয়সী এক ছেলে আহত হয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের ১৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলেও ড্রোন প্রতিহতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পায়নি।