কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ছবি- সংগৃহীত- ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও নতুন করে তীব্র সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলায় লিপ্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর আকস্মিক হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। নতুন করে এই সামরিক সংঘাতের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নজিরবিহীনভাবে যুদ্ধের তীব্র উত্তেজনা ও সংশয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং আইআরজিসির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) ভোরে আইআরজিসি একটি বিশেষ দাপ্তরিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন,২০২৬) রাতে হরমুজ প্রণালির অত্যন্ত স্পর্শকাতর জলসীমায় অবস্থানরত একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন বিমানবাহিনী আকাশপথ থেকে আকস্মিক হামলা চালায়। এতে জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত গার্ড বাহিনীর একটি প্রধান যোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই দুই উস্কানিমূলক হামলার তীব্র জবাবে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী কুয়েতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ৫ম নৌবহরের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট সতর্ক করেছে যে, ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক আগ্রাসন বা হামলার ‘কঠোর ও চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি বা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের সবাইকে এর চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তবে ইরানের এই দাবির বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির দিকে দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তবে তা মূল লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই মাঝ আকাশে ভেঙে পড়ে অথবা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। একই সঙ্গে বাহরাইনের দিকে ইরান ও তার মিত্রদের ছুড়ে দেওয়া আরও তিনটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিখুঁতভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
প্রাইমটিভি/বিএম

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









