তিউনিসিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা রাশেদ ঘানুচিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আননাহদা দলের নেতা রাশেদ ঘানুচি ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে একটি পুলিশ স্টেশনে পৌঁছান। ছবি: এপি
তিউনিসিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা ও আননাহদা দলের প্রধান রাশেদ ঘানুচিকে সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে আরও ৩০ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার তিউনিস ফার্স্ট ইনস্ট্যান্স কোর্ট ‘গোপন সংগঠন’ বা ‘সিক্রেট অ্যাপারেটাস’ মামলায় এ রায় দেয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তুনিস আফ্রিক প্রেস (টিএপি) জানিয়েছে, মামলায় ঘানুচিসহ কয়েক ডজন আসামির বিরুদ্ধে ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে।
আদালত ঘানুচি ও অন্য আসামিদের ‘সন্ত্রাসী জোট গঠন’, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সরবরাহ এবং সন্ত্রাসী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালত সব আসামির জন্য পাঁচ বছরের প্রশাসনিক নজরদারির নির্দেশও দিয়েছে।
এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলি লারায়েদের উপদেষ্টাসহ আরও ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৯৬ বছর পর্যন্ত অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ১৩ জনকে ১০ থেকে ৪৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের শুরুতে সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর এবং ২০১৩ সালে নিহত বামপন্থী রাজনীতিক শোকরি বেলাইদ ও মোহাম্মদ ব্রাহমির পরিবারের আইনজীবীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, আননাহদার কথিত ‘গোপন সংগঠন’ হত্যাকাণ্ড, গুপ্তচরবৃত্তি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তবে আননাহদা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে।
২০২৩ সালে রমজান মাসে নিজ বাসভবনে এক সমাবেশ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী ঘানুচিকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালত তাকে ‘বিশৃঙ্খলা ও অবাধ্যতা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে কারাগারে পাঠায়।
চলতি বছরের এপ্রিলে ঘানুচির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানায় আননাহদা। দলটি এবং বিরোধী জোট ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট তার মুক্তির দাবি জানায়।
এর আগে ১৫ এপ্রিল ‘রমজান সোয়ারে মামলা’ নামে পরিচিত আরেক মামলায় ঘানুচি ও আননাহদার আরও তিন নেতাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষ অবশ্য ঘানুচি ও অন্য বন্দিদের রাজনৈতিক কারণে আটক রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









