যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসসি) ইসরায়েলি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য অন্তত ৮৯টি দান করা মরদেহ বিক্রি করেছে, এমন অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মরদেহ মার্কিন নৌবাহিনীর মাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক সার্জনদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ইউএসসি মার্কিন নৌবাহিনীর যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব মরদেহ সরবরাহ করা হয়। কিছু নথিতে বলা হয়েছে, মোট ৮৯টিতাজা মরদেহপ্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক পরিবারের সদস্য, যাদের আত্মীয়রা জীবদ্দশায় নিজেদের দেহ গবেষণার জন্য দান করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, মরদেহগুলো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি।

ইউএসসির একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী অনুসন্ধানী দলের সদস্য জানান, দান করা মরদেহগুলোকে বিশেষ একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে রক্ত সঞ্চালন করিয়েজীবন্ত অবস্থার মতোকরে যুদ্ধক্ষেত্রের আঘাতের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়।

প্রশিক্ষণে গুলিবিদ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণে আহত হওয়া এবং জটিল ট্রমা সার্জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ইসরায়েলি সামরিক চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি দাবি করেছে, এটি একটিশিক্ষামূলক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি”, কোনো সামরিক প্রকল্প নয়।

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্জনরা শল্যচিকিৎসা পদ্ধতিতে আঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং এটি চিকিৎসা প্রশিক্ষণের অংশ।

তবে সমালোচকদের মতে, দান করা মরদেহ ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং পরিবারের সম্মতির বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তারা বলছেন, দানকারীরা জানতেন না তাদের মরদেহ সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে।

মানবাধিকার নৈতিকতা বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বেসামরিক চিকিৎসা দানের উদ্দেশ্যকে সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হলে তা নিয়ে স্বচ্ছ নীতিমালা থাকা জরুরি।

ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেহদান প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসা গবেষণার নৈতিক সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।