হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে ছোড়া একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালির দিকে পাঠানো চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। সেন্টকমের দাবি, সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবে তারা অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি তেলবাহী জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে অন্তর্বর্তী চুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরান নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ সম্পদে প্রবেশাধিকার এবং বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দাবি করছে।

অন্যদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। শনিবার সকালে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, খারদালি-নাবাতিয়েহ সড়কে তাদের একটি সামরিক যান লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় একজন কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, “লেবানন যদি ইরানের দরকষাকষির হাতিয়ার হতো, তাহলে অনেক আগেই সমঝোতা হয়ে যেত।”

এর আগে হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর দাবি, ওই প্রস্তাবে হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও ছিল না।